image

নওগাঁর ধামইরহাটে কৃষকের মাঝে নবান্নের উৎসব

image

আবু রায়হান রাসেল, নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর ধামইরহাটের চিরি নদীর দ্ধুস পাড়ের কৃষকদের মাঝে পালিত হলো নবান্নের
উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই দিনটিকে ওই এলাকার কৃষকরা
পালন করে। তবে এবার ধানের দাম বেশী পাওয়ায় তাদের মাঝে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
প্রতিটি গ্রামে ফিরে এসেছে নবান্নের উৎসবের আমেজ।
১ অগ্রহায়ণ গ্রাম বাংলার কৃষকরা সাধারণত তাদের নতুন ফসল ঘরে তোলে। বর্তমানে
মাঠে মাঠে কৃষক সোনালী স্বপ্ন দুলছে। আর এ সোনালী স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে
কৃষক-কৃষাণীরা কোমর বেঁেধ কাজ করছে। বর্তমান এ এলাকায় স্বর্ণা-৫ জাতের ধান
বেশি রোপন করা হয়েছে। ধান কাটামাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাজারে প্রতি মণ
(৪০ কেজি) ধান এক হাজার ১শত টাকা দরে কেনা বেচা চলছে। কৃষকরা এবার ধানের দাম
বেশি পেয়ে বেশ খুশি। তাদের মাঝে বাড়তি উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিন
গিয়ে দেখা গেছে,উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত ভারত সীমান্তবর্তী উত্তর
রুপনারায়লপুর চিরি নদীর দুই পাড়ের কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালনের জন্য ব্যাপর প্রস্তুতি
নেয়। তারা নতুন ধানের আটা দিয়ে বিভিন্ন ধরণেয় পিঠা,পুলি এবং ক্ষীর তৈরি করে।
দিবস উপলক্ষে এলাকার মেয়ে-জামাইদের শ্বশুড় বাড়ীতে আগমন ঘটে। প্রায় প্রতিটি
বাড়ীতে গরু ও মহিষের মাংস এবং নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পায়েস ও ক্ষীর।
এসব দিয়ে মেহমানদের অ্যাপায়ন করা হয়। নবান্ন উপলক্ষে চিরি নদীর ব্রীজের পশ্চিম
পার্শে উত্তর রুপনারায়ণপুর গ্রামের দুইটি মহিষ জবাহ করা হয়। ওই গ্রামের মাতব্বর
মো.আইয়ুব হোসেন,আলহাজ্ব মো.নবিবর রহমান জানান,তারা দুটি মহিষ জবাহ করে
গ্রামবাসীদের মাঝে মাংস বিতরণ করেছেন। দুটি মহিষ থেকে প্রায় ৪শত ১০ কেজি
মাংস পাওয়া গেছে। এক হাজার টাকার বিনিময়ে ২শত জনের মাঝে এ মাংস বিতরণ করা
হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন,এবার ধামইরহাট
উপজেলায় ১৯ হাজার ৭শত ৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এবার ফলন
কিছুটা কম হলেও দাম বেশি পেয়ে কৃষককূল খুশি। ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ
ফলনশীল (উফশী) এবং ৭শত ৯০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান রোপন করছেন।
ব্রিধান-৩৪,৪৯,৭৫,৮৭,বিনা-১৭,স্বর্ণা-৫,ত্বরা স্বর্ণা,চিনি আতব,জিরাশাইল ও
কাটারীভোগ জাতের ধান চাষ করছেন। বর্তমানে ধান কাটামাড়াই পুরোদমে শুরু
হয়েছে। বাজারে কাঁচা ধান এক হাজার একশত টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে
এলাকার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।