image

সোনাগাজীতে একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত 

image


সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম ! ২০১৪ ইং সালে ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। এলাকায় কাছাকাছি স্কুল থাকায় উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৭৩ জন। প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন সহ সহকারী শিক্ষক ৩ জন মিলে মোট ৪ জন শিক্ষক ছিলো। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ৩ জন শিক্ষক ডিপিএড প্রশিক্ষনে চলে যায় সহকারী শিক্ষক নুর উদ্দিন, শাহ আলম ও মিশু রানী ঘোষ। প্রশিক্ষণে যাওয়া শিক্ষকগন আগামী ২০২২ ইং সালের মাঝামাঝি পাঠদান কার্যক্রমে ফিরবে। মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে প্রাক প্রাথমিক থেকে দুই পর্বে ৫ ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলে! ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির আশরাফুল ইসলাম মুস্তাকিম এর অভিভাবক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন করোনার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ ছিলো। স্কুল খোলার পর শিক্ষক সংকটের কারণে যদি পড়াশোনা না হয় তাহলে স্কুল চালু করে কি লাভ হলো। একজন শিক্ষক দিয়ে ক্লাসগুলো ঠিক মতো হচ্ছেনা।

 

শিক্ষা অফিসারকে বলার পর কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। আমরা শিক্ষার্থীদেরকে অভিভাবকরা দিশেহারা। প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন,আমি খুব কষ্ট করে ক্লাশ চালিয়ে নিচ্ছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে দ্রুত শিক্ষক দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ও দাতা সদস্য আবুল খায়ের এর সাথে শিক্ষক সংকট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। শিক্ষক দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

 

কিন্তু আজও কোন শিক্ষকের ব্যবস্থা করে নাই। সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত মোঃ ওয়াহিদুর রহমানকে শিক্ষক সংকটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিতভাবে হাজী শেখ মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি অবহিত করেছি। আশা করছি দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে।

 

  ওই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক অভিভাবক বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার এর উদাসীনতার কারণে এমন শিক্ষক সংকটের মতো ঘটনা ঘটেছে। অথচ আশপাশের বিদ্যালয়গুলোতে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক আছে   উনি যদি বিচক্ষণ হতেন তাহলে ১/২ জন শিক্ষক ম্যানেজ করে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা যেতো।